Monday, January 6, 2020

দূর হোক সকল আপদ, সড়ক থাকুক নিরাপদ।

দূর হোক সকল আপদ, সড়ক থাকুক নিরাপদ.




প্রতিটা দিন শুরু হয় নতুন করে বাঁচার আশায়। প্রতিটা দিন কর্মচঞ্চল হয়ে উঠে আরো একটু ভালো থাকার জন্য, আরো একটু আনন্দের জন্য, পরিবারকে ভালো রাখার জন্য, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে ভালো রাখার জন্য। সেই স্বপ্নগুলো পূরণের জন্য বা জীবিকার তাগিদে মানুষকে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয় গাড়িতে, চলতে হয় সড়কে।

কিন্তু আমাদের দেশে যে সড়ক দিয়ে সে জীবনের লড়াইয়ে যায়, যেই পরিবহনে চড়ে সে স্বপ্ন বাস্তবায়নের জায়গায় যায় সেই সড়কই মাঝে মাঝে সব লড়াই থামিয়ে, সেই পরিবহনই তার স্বপ্নগুলোকে দুমড়ে মুচড়ে ফেলে।
তাই সড়ক ও পরিবহন হয়ে উঠেছে এক আতঙ্কের নাম।

বাচ্চা হাসিমুখে স্কুলে যাচ্ছে ফিরছে লাশ হয়ে, মেয়ে কলেজে গেছে ফিরছে লাশ হয়ে, স্বামী চাকুরিতে যায় ব্যবসার কাজে বাইরে যায় তার সুস্থভাবে বাসায় ফেরার গ্যারান্টি নেই। কি ভয়ঙ্কর ব্যাপার!
প্রত্যেক পরিবারের কাউকে না কাউকে বাহির হতেই হয় এবং পুরো পরিবার থাকে দু:শ্চিন্তায়।
'নিরাপদ সড়ক চাই' সংগঠনের হিসেব মতে বিগত ২০১৯ সালে ৪৭০২ টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ৫,২২৭ জন। যার মাঝে ২৬৬১ জন মারা গেল গাড়ি চাপায়। যা মোট মৃত্যু সংখ্যার প্রায় ৫০.৫৪%। সাথে আহত হয়েছে প্রায় ৬৯৫৩ জন।

এই আহত ও নিহত হওয়া ১২,১৮০ জন যদি আট-নয় হাজার পরিবারের সদস্য হয় তাহলে এই আহত ও নিহতদের সাথে প্রায় আট নয় হাজার পরিবারের বিশ পঁচিশ হাজার সদস্যেও ক্ষতিগ্রস্ত হল।
সরকারি আইন ও সমঝোতার মাধ্যমে অনেকে ক্ষতিপূরণ পেলেও মানুষের ক্ষতিপূরণ অর্থ দিয়ে কতটুকু করা যায় তা প্রশ্নবিদ্ধ।
গাড়ি চাপা দেওয়া বা পথচারীর প্রাণ নেওয়ার অন্যতম কারণগুলো হচ্ছে ওভারস্পীড, অনিয়ন্ত্রিত ট্যাকল, প্রতিযোগিতা, ফিটনেস না থাকায় ব্রেকফেইল, ও ড্রাইভারের নেশার আসক্তি।
যার অনেকক্ষত্রেই সচেতন থাকলে দুর্ঘটনা এড়িয়ে যাওয়া যায়।
যেহেতু আমরা সড়ক ও পরিবহন ব্যবহার ছাড়তে পারবো না। সেহেতু পরিবহন চালকদের সচেতন ও কঠোর আইনের আওতায় না আনলে এ ধরণের দুর্ঘটনা উপুর্যপুরি বৃদ্ধি পাবে। যার প্রমাণ আমরা বিগত বছরগুলোতে দেখতে পাই। ২০১৮ সালে ৩১০৩ টি দুর্ঘটনার বিপরীতে ২০১৯ বছরে প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পায়।

এই লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ২০১৮ সালে নতুন   সড়ক আইন প্রণয়ণ করে এবং বাস্তবায়নে কাজও শুরু করেছে। কিন্তু কতটুকু কার্যকর হয়েছে? বা আইন প্রয়োগের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে কি না তাও দেখার বিষয়।
তাই অতি দ্রুত বিদ্যমান আইনেরই বাস্তবায়ন করতে হবে এবং পরিবহন চালকদের যথেষ্ট প্রশিক্ষণ ও সচেতন করতে হবে।
এছাড়া আইনের সঠিক প্রয়োগের জন্য উপযুক্ত পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে।
যাতে টাকা বা ক্ষমতা দিয়ে মিথ্যে ফিটনেস লাইসেন্স নেওয়া, পর্যাপ্ত দক্ষতা ছাড়াই ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার মত ঘটনাসমূহ বন্ধ হয়।
ঢাকাসহ বড় বড় শহরগুলোতে যেখানে লোকজনের আধিক্য বেশি সেখানে ট্রাফিক আইনের লোকবল বাড়াতে হবে। ফিটনেস বিহীন গাড়ি চলা, বা অবৈধ ট্যাকল, রাস্তায় বসানো বিভিন্ন সাইন মানা, সহকারী দিয়ে গাড়ি চালানো বন্ধসহ অন্যান্য সকল ট্রাফিক আইন মানার উপর জোর দিতে হবে।

তারই সাথে সাথে দূরপাল্লার বাসগুলোতেও বেপোরায়া গতির সাথে পাল্লা দিয়ে গাড়ি চালানো, নেশা করে বা ঘুম ঘুম চোখে গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে।
পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে।


এছাড়া পথচারীদের সচেতন করার জন্যও উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কর্মশালা, লিফলেট, টিভি বা ডিজিটাল মিডিয়ার মাধ্যমে তাদের সচেতনতা বাড়াতে হবে।
মোবাইল বা হেডফোন কানে নিয়ে রাস্তা পার হওয়া, ওভারব্রিজ বা জেব্রাক্রসিং থাকা সত্ত্বেও ব্যবহার না করার প্রবণতা বন্ধ করার ব্যবস্থা নিতে হবে।
সরকারেরও প্রয়োজনীয় স্থানে ওভারব্রিজ, জেব্রাক্রসিং ইত্যাদি তৈরী করতে হবে।
রাস্তার সাইনগুলো যাতে সহজেই চোখে পড়ে এমন স্থানে রাখত হবে।
এই বছর সঠিক আইন প্রয়োগ, সচেতনতা ও উপযুক্ত ব্যবস্থার মধ্যে দিয়েই আমাদের আগামী দশকে সড়ককে নিরাপদ রাখার কার্যক্রম শুরু করতে হবে।
দিনশেষে সকল স্বপ্ন ঘরে ফিরুক, আর কোন লড়াই যেন রাস্তায় ছিটকে না পড়ে তাই হোক আমাদের ও সরকারের অঙ্গীকার।

No comments:

Post a Comment