পুরুষেরা ঘরের কাজে এখন সাহায্য করুন। কেটেকুটে দিন, থালাবাসন ধুয়ে পরিষ্কার রাখুন ইত্যাদির জন্য আমি বলি স্রেফ না। এখন এগুলো করবেন না। এখন করবেন, দুদিন পর সব ঠিক হয়ে গেলে যেই লাউ সেই কদু এরকম হলে কোন দরকার নেই।
ঘরের কাজে একজন পুরুষের উচিত যখনি সময় পায় তখনি (মানে প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় সাহায্য করুন)। ঠিক একইভাবে স্ত্রীও বাইরের কাজে স্বামীকে সাহায্য করবে। কিভাবে?
সিম্পল, আপনার পক্ষে যা সম্ভব। সকালে তার প্রয়োজনীয় জিনিস হাতের কাছে রাখুন। আসার পর যথাসম্ভব চা বা শরবত দিন। অভিযোগ থাকলেও তা পরে বলুন। যেমন এটা আনতে বলছি, ভুলে গেছ, মনে থাকবে কেন? মন কই? ইত্যাদি ইত্যাদি।
আসার পর স্থির হোক তারপর নাহয় আঁচল বেধে ঝগড়া কইরেন।
আর স্বামী সাহেবরা
,
অফিস থেকে, দোকান থেকে, কাজ থেকে এসে পুরো সময়টুকু টিভি দেখা, বিশ্রাম নেওয়া আর কোন কাজই না করা এসবের মানে নেই। আপনি যেমন সংসারের জন্য ৮-১০ ঘন্টা কাজ করে তেমনি আপনার স্ত্রী ১৪-১৫ ঘন্টা কাজ করে। এত বৈষম্য কেন?
আপনিও ১২-১৪ ঘন্টা কাজ করেন।
আরে তারা আর কি কষ্টের কাজ করে!!
যারা এটা বলেন তাদের বলছি এই কয়দিন প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দেখুন ঘরে কি কি কাজ হয়, কতদিকে খেয়াল রাখতে হয়, কত নিপুণভাবে করতে হয়। সময় ও সবার প্রয়োজনের দিক খেয়াল রাখতে হয়। ৫-৬ দিন স্রেফ দেখুন। তারপর দুজনে দুজনরে সাহায্য করুন।
(আমি রমজানে মাঝে মাঝে আলুর চপ,বেগুনি ভাজি। ২-৩ টা বেগুনি দিয়ে বসে থাকা আবার লাকড়ি ধাক্কানো তাও আগুন কম বেশি যাতে না হয় এত কাজ পারি না এখনো একসাথে। লাকড়ির চুলায় আগুন কমবেশির মিটারই বুঝতে পারি নাই আজ পর্যন্ত।)
এবং অবশ্যই মানসিক সাপোর্ট খুব জরুরী। আপনাকে এর জন্য সাইকোলজি পড়তে হবে না। বা লেকচার জানতে হবে না। আপনার স্বামীকে বলুন "তুমি এত কাজ কর!! " বিমর্ষ দেখলে খোঁজখবর নিন। ঘরে ঢুকলে সালাম দিন।
এবং স্ত্রীরে খুশি করার জন্য?
আমার মনে হয় এর চেয়ে সহজ জিনিস আর নাই।
মাঝে মাঝে তার সাথে সিরিয়াল দেখুন, জিজ্ঞেস করেন কাহিনী কি?(ভাইরে ভাই একবার বলা শুরু হলে দম-মুখ বন্ধ কইরা শুনবেন। ভুলেও উপহাস কইরেন না।)
তারে বলুন তার কাজও অনেক মূল্যবান। সে আপনার চেয়ে বেশি কাজ করে(আসলেই করে).
ঘরে ঢুকতে-বের হতে সালাম দিন। পারলে জড়িয়ে ধরুন, চুমু দিন। তার রান্না ও কাজের প্রশংসা করুন। রান্নার সময় তার পাশে থেকে গল্প গুজব করুন। তারে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে ২-১ টা ভালো কথা বলুন। (বিরক্তি দেখাবে কিন্তু খুশি হবে।)
মাঝে মাঝে তার রুপের, গুণের প্রশংসা করুন। সাধারণ ভাষায় বলুন, এই জামায় তোমায় সুন্দর লাগছে। আচ্ছা, ওই যে ওই শাড়ীতে তোমারে এত ভালো লাগতো একদিন আমার জন্য পইরোতো।
আর কিছুর দরকার??
(শুধু ৩০ এর নিচের কাপল না যে কোন বয়সীর জন্য প্রযোজ্য। হালাল ভালোবাসা বয়স দিয়ে আটকিয়ে রাখবেন না।)
[বি.দ্র : চুমু খাওয়া ও জড়িয়ে ধরার সময় আশেপাশে ও দরজা জানালার দিকে খেয়াল রাখবেন]
-এন জে শাওন
#ভালো_থাকুন
#ভালো_রাখুন
No comments:
Post a Comment