নববর্ষ ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ?
"ধর্ম যার যার উৎসব সবার।"
বর্তমানে প্রচলিত ও বিতর্কিত একটি স্লোগান।
বিপরীত দিকে একদল কথাটিকে শুধুমাত্র ধর্মীয় দিক থেকে নিয়ে সার্বজনীন উৎসবগুলোর ও বিরোধিতা করে আসছে।
শুধুমাত্র বুঝার ভুল কিংবা জেনেও হাঙ্গামা করার জন্যই লাইনটাকে বিতর্কিত করা হচ্ছে।
উৎসব বলতে এখানে যেখানে একটা নির্দিষ্ট সম্প্রদায়/গোষ্ঠী/দল একসাথে কোন এক নির্দিষ্ট (সাধারণত ঐতিহাসিক) কারণে আনন্দে মেতে উঠে।
উৎসব শুধুমাত্র ধর্মীয় হয় এরকম না। উৎসব বিভিন্ন ধরণের হতে পারে।
যেমন:
১)ধর্মীয় উৎসব। (ঈদ,পুজো)
২)রাষ্ট্রীয় উৎসব। (বিজয় দিবস)
৩)জাতিগত উৎসব। (পহেলা বৈশাখ, পহেলা বসন্ত)
৪) আন্তর্জাতিক উৎসব (নিউ ইয়ার)
এখন আপনি যেটার আওতায় আপনি সেটা মানবেন।
যেমন যখন বিজয় দিবস তখন এই উৎসব শুধুমাত্র মুসলমান বা হিন্দু নয় পুরো বাংলাদেশিরা পালন করি।
কিন্তু কলকাতার মানুষরা বাঙালি হলেও তারা আমাদের বিজয় দিবস পালন করার যুক্তি নাই।
আবার যখন জাতিগত উৎসব আসবে সেক্ষেত্রে কলকাতা অন্য রাষ্ট্রের হলেও তারা আমাদের সাথে সেটা পালন করবে। (বাঙালি জাতি বলে)।এখানে সে বাংলাদেশি কিনা তা চিন্তার বিষয় নয়। ঠিক সে হিন্দু নাকি মুসলিম তাও দেখার বিষয় না। (এ ব্যাপারে দ্বিমতপোষণকারীদের উদ্দেশ্য কমেন্টবক্স কিংবা ইনবক্স খোলা).
ধর্মীয় উৎসবের বেলায়ও ঠিক তাই। ধর্ম যার যার ধর্মীয় উৎসবের বেলায় উৎসব তার তারই।তার ধর্মের সকল মানুষের। এখানে আবার দেশের কাঁটাতার লাগানো অন্যায়। কিন্তু অন্য ধর্মের সবাই পালন করার যৌক্তিকতা নাই। এইবেলায় আপনি আপনার ধর্মটাই পালন করুন।
এখনকার দিনে আবার প্রত্যেক দিবসেই কপোত-কপোতিরা বিভিন্ন অসামাজিক কার্যে লিপ্ত হয়।
এবং একদল যার কারণে দিবস বা উৎসবকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
এখন কেউ যদি ঈদের দিন বিকেলে ঈদ উপলক্ষে
এসব করে তাইলে কি ঈদের উপর দোষ বর্তাবে?
পুজোর দিন করলে?
নববর্ষ বা বিজয় দিবসের দিন?
একটা গল্প বলে শেষ করছি। বেশ কয়েকদিন আগে আমার এক হিন্দু বন্ধু বলেছিল
"আমরাতো তোদের ঈদে সবার সাথে কোলাকুলি করি, ঘুরতে যাই,সেমাই খাই।তাইলে তোদের আমাদের পুজার খাবার খাইতে কি সমস্যা?
আমি তারে বললাম "ঈদের নামাজ পড়স?"
সে বললো "নাহ,এটা আমাদের ধর্মে নাই"
আমি মুচকি হেসে জবাব দিলাম,
"দেব-দেবীর নামে উৎসর্গকৃত খাদ্যবস্ত খাওয়া আমাদের ধর্মে নাই।এবং স্পষ্টত নিষেধ আছে।"
· নববর্ষ উৎসব প্রসঙ্গ
নববর্ষ নিয়াও প্রতি বছর তর্ক-বিতর্ক, দ্বিধা-দ্বন্দ হয়। আসলে নববর্ষ কি ধরণের উৎসব?
নববর্ষ একটা সার্বজনীন উৎসব। যে কোন পঞ্জিকা অনুসারীদের জন্যই ওই ক্যালেন্ডারের প্রথম দিন উৎসবের। বাঙ্গালি জাতির জন্যও তেমনি।
শুধু বাঙালি না যেসব উপজাতি এই পঞ্জিকা অনুসরণ করে তাদের জন্যও।
এখন ধর্মীয় দিক থেকে আপনি যদি বলেন হিন্দুরা এদিন পুজা করে তাই এটা হিন্দুদের উৎসব তাইলে
তো হবে না।
ওই পূজোটাই শুধু হিন্দুদের জন্য।
কারণ এই নববর্ষটা কোন হিন্দু শুরু করেনি মুসলমানদের দ্বারাই শুরু হয়েছে। সম্রাট আকবরের আমলে হয়েছে। এবং তিনি মুসলমান ছিলেন। তখনকার কৃষকদেরন সুবিধার জন্য, এবং কর আদায়ের সুবিধার্থে তিনি এটা প্রণয়ন করেন।
হিন্দু ধর্মের উদ্ভব এই উপমহাদেশ জুড়েই তাই এখানের জাতিগত অনুষ্ঠানগুলোতেও তারা ধর্মীয় ভাব রেখেছে।
এক্ষেত্রে তার দেব-দেবীর প্ল্যাকার্ড বানালেও সেটা তাদের জন্যই।
যেমন আরবে অমুসলিমরা গেলেও জুব্বা পরে। এটা তাদের সংস্কৃতি।
এবার কিছু বলবেন বৈশাখ, জৈষ্ঠ্য এসবগুলোই হিন্দু দেবীর নামে হয়েছে তাদের জ্ঞাতার্থে বলতে চাই এগুলো নক্ষত্রের নাম থেকে হয়েছে এবং একই নামে হিন্দুরা দেবির নামও দিয়েছে। এছারা আপনি যেই ইংরেজ মাসের নাম বলেন সেগুলোর নামের সাথেও রোমান দেবতার নাম আছে আপনি সেগুলোর হিসেব রাখেন না?
এবার কিছু বলবেন বৈশাখ, জৈষ্ঠ্য এসবগুলোই হিন্দু দেবীর নামে হয়েছে তাদের জ্ঞাতার্থে বলতে চাই এগুলো নক্ষত্রের নাম থেকে হয়েছে এবং একই নামে হিন্দুরা দেবির নামও দিয়েছে। এছারা আপনি যেই ইংরেজ মাসের নাম বলেন সেগুলোর নামের সাথেও রোমান দেবতার নাম আছে আপনি সেগুলোর হিসেব রাখেন না?
এখন যদি বলেন ইসলামে তো এরকম মেলা করা, বেপর্দা করা
তাদের বলি ইসলামে শুধু নববর্ষের মেলা করা, বেপর্দা করা জায়েয নাই তা কিন্তু না।
যে মেলাতে, যে জায়গাতে ছেলে-মেয়ে উভয়েই বেপর্দা করে যায় সেটাই নাজায়েয।
সেটা হোক ছোট বাজার কিংবা বাণিজ্য মেলা বা বৈশাখী মেলা।
তাইলে বৈশাখী মেলাতেই কেন ধর্মের দোহাই আসবে?
সুতরাং শুধু শুধু দিনটাকেই হারাম বলার দরকার নাই। আপনার নতুন বছর আপনি ভালোভাবে করেন। যে কোন কিছুর শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়তে হয় তা দিয়ে শুরু করেন।
আমি বলছি না নতুন প্রচলিত মিছিল করেন, ইলিশ খান বরং আমিও এগুলোতে আপনাকে অনুৎ'সাহিত করবো কারণ এই সময় ইলিশের প্রজনন সময়।
আপনি হালখাতা করেন। ভালো কিছু করার শপথ করুন। একদিন অন্তত দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে পড়ুন, ইতিহাস জানুন।
এবার শেষে আসি, যারা বলবে "একদিনের বাঙালি হয়ে কি লাভ?
তাদের উলটো জিজ্ঞেস করবেন "সারাবছর তারা কি এমন বাঙালিয়ানা করেছে?
এবং কখনোই না করার না হওয়ার চেয়ে একদিন হওয়া ভালো না?
সর্বশেষ উদযাপন করতে গিয়ে কেউ যাতে লাঞ্জিত না হয় তার প্রস্তুতি এবং সজাগ থাকা সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তবে মঙ্গল শোভাযাত্রা যাওয়া নিয়ে আমার ভিন্নমত। সে পোস্টটি পাবেন https://njshawon.blogspot.com/2019/04/blog-post_13.html
তবে মঙ্গল শোভাযাত্রা যাওয়া নিয়ে আমার ভিন্নমত। সে পোস্টটি পাবেন https://njshawon.blogspot.com/2019/04/blog-post_13.html
-এন জে শাওন

No comments:
Post a Comment