Saturday, April 13, 2019

মঙ্গল শোভাযাত্রা ও বাঙালীয়ানা


 মঙ্গল শোভাযাত্রা ও বাঙালীয়ানা

 এন জে শাওন


কিছু মানুষ ফতোয়া দিচ্ছে নববর্ষ হিসেবে আপনি এক গ্লাস পানি খেলেও আপনার ঈমান থাকবে না ।
অপরদিকে কিছু মানুষ ফতোয়া দিচ্ছে আপনি মঙ্গলশোভাযাত্রায় অংশগ্রহন না করলেই আপনি পাকিস্তান বিলং করেন মানে বুকে পাকিস্তান ধারণ করেন । আপনার বাঙ্গালীয়ানায় ঘাটতি আছে।

এ দুদলের মাঝে কোন পার্থক্য নেই । কেন
নববর্ষ পালন করবেন তার জন্য https://njshawon.blogspot.com/2019/04/blog-post.html এই লিংকে একটা লেখা লিখেছি এবং ফেসবুকের পূর্বের পোস্টটিও দেখতে পারেন।
এই ব্লগে শুধুমাত্র মঙ্গলশোভাযাত্রা নিয়েই লিখলাম।

মঙ্গল শোভাযাত্রা ও বাঙ্গালী সংষ্কৃতি

 

প্রথমত, মঙ্গল শোভাযাত্রাকে বাঙ্গালীর সংষ্কৃতি হিসেবে যারা ধরেন তাদের সাথে আমার সংস্কৃতির সংজ্ঞা মিলে না।
আজ যেটা প্রতিষ্ঠা করেছেন তা একটা অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে বেশিরভাগ মানুষ লালন করে আসলে তবেই তা সংস্কৃতি।

এখন দেখা যাক এই শোভাযাত্রা প্রতিষ্ঠা মাত্র ৩০ বছর। তারপরে বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষই এটা মেনে নিচ্ছে না তাইলে এটা সংস্কৃতিতে আসলো কিভাবে?

যারা প্রশ্ন করবেন , সংষ্কৃতিতে কি নতুন কিছু আসতে পারে না? অবশ্যই পারে তবে তা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হলে তবেই ।
এবং যেকোন নতুন কিছুর বিরোধিতা মানুষ করবেই।  আপনি চিন্তা করে বলেন এটা কি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য?

মঙ্গল শোভাযাত্রার ইতিহাসঃ


 আমি পুরো ইতিহাসটা এখানে কপি-পেস্ট করতেছি না। তবে দরকারি কিছু বলি। ১৯৮৫ সালে যশোরে এটি সৃষ্টি হওয়ার পর ১৯৮৯ সালে আনন্দশোভা যাত্রা নামে এর সৃষ্টি। তখন কিন্তু এর নাম মঙ্গলশোভাযাত্রা ছিল না। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে এটির নাম মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়।
এবং এর সৃষ্টিতে মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। তখনকার স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে মানুষকে একত্র করার একটা মোক্ষম সুযোগ হিসেবে এটিকে বেছে নেওয়া হয়।
শিল্পকলা একাডেমীর চারুকলা বিভাগের পরিচালক চিত্রশিল্পী মনিরুজ্জামান নিজেই বলেন এর একটি রাজনৈতিক প্রেক্ষিতও ছিল। সুতরাং শুধু সংস্কৃতি রক্ষা বা নববর্ষের কলেবর বৃধির জন্যই এর তৈরী হয়নি।

এবার আসি মঙ্গলশোভাযাত্রা কতটা মঙ্গল বয়ে আনে?


এই বিজ্ঞানের যুগে আমার মাথায় ঢুকে না কেন এইসব শিক্ষিত মানুষ এরকমটা বিশ্বাস করে। কোন ধরণের শোভাযাত্রাই, হাতি, প্যাঁচা ইত্যাদি কোনটাই কোন ধরনের মঙ্গল আনতে পারে এরকম কোন তথ্য নাই। তাই এটা বিশ্বাস করা নিতান্তই অমূলক।

 মুসলমানদের জন্য মঙ্গল শোভাযাত্রা পালন করা 


মুসলমান যারা ধর্ম পালন করতে চায় এবং করে তাদের জন্য মঙ্গল শোভাযাত্রা হারাম। এর কারণ ঃ-

১) অবৈধভাবে নারী পুরুষের মেলামেশা যে উৎসবেই হোক তা মুসলমানের জন্য নিষিদ্ধ। সেতা শুধু এখানে না, যে কোন ধরনের মেলাতেই এমন হলে তা নিষিদ্ধ এমনকি তা কোন ওরস উপলক্ষে মেলা হলে তাতেও যদি নারী পুরুষ অবাধ ভাবে যায় তাহলে সেখানে যাওয়া নিষেধ।
এই কথা শুনে যারা বলবেন স্কুল, কলেজ, রাস্তাঘাটেও তো এরকম হয় সেগুলো নিষিদ্ধ? আরে ভাই/আপু যেখানে না যাইলেই হয় না সেখানে যাওয়ার নিয়ম আছে এবং সেক্ষেত্রে আপনাকে বেগানা নারি/পুরুষের সংশ্রব থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকার চেষ্টা করতে হবে।

এখন যারা বলবেন , আরে তোমাকেতো চিনি , তুমি নিজে পালন করো না আবার আমাদের বুঝাইতে আসছো তাদের উদ্দেশ্য বলি আমি পালন করি বা না করি তাতে সত্য পরিবর্তন হয় না। স্পেড কে স্পেড বলাই বাঞ্জনীয়।

২) ইসলামে কোন প্রাণীর মূর্তি বানানো নিষিদ্ধ।
‘তোমরা পরিহার কর অপবিত্র বস্ত্ত অর্থাৎ মূর্তিসমূহ এবং পরিহার কর মিথ্যাকথন।’ -সূরা হজ্জ : ৩০ 

সেখানে বিভিন্ন প্রাণির অবয়ব বা প্রতীকী মুর্তি সরাসরি নিষিদ্ধই মুসলিমদের জন্য।

৩) মঙ্গলশোভাযাত্রার মাধ্যমে মঙ্গল বয়ে আনবে বলে যেসব নিউজ ছাপা হয় এসব বিশ্বাস করা নিতান্ত হাস্যকর পাশাপাশি ইসলামে এসব নিষিদ্ধ। এটা মনে করাটা শিরকের পর্যায়ে পড়ে।


বাঙালী ইস্যু পালন করবেন নাকি ইসলামি আইন?

ধরে নিলাম মঙ্গল শোভাযাত্রা বাঙালী ঐতিহ্য এখন কোনটা পালন করবেন?
সরাসরি উত্তর যে যেটা চায়।
আপনি ধর্মভীরু। ওকে আপনি যাইয়েন না কিন্তু আপনি যারা যাবেন তাদের উপর হামলা চালাইতে পারেন না।

আবার
আপনার ধর্ম আপনি পালন করেন কম ওকে ফাইন আপনি তাইলে অংশ নেন। এর দায় একান্তই আপনার। এমনকি আপনি অন্যকেও অংশ নিতে আহবান করেন ,ইটস ওকে। আপনি সরাসরি মুসলমান থেকে বাহির হয়ে যাবেন এটা আমি মনে করি না।
কিন্তু আপনি জোর করতে পারেন না। বা যা পালন করবে না তার বাংলাদেশে থাকার অধিকার নেই তা বলতে পারেন না । ষোলকোটি বাংলাদেশি সর্বোচ্চ পঞ্চাশ হাজার অংশগ্রহন করে বাকি সবাইকে আপনি মুখস্ত পাকিস্তান বিলং করে বলতে পারেন না।


 এখন যারা বলবেন আপনার কথাতো এই দলের মত শোনায়, ওই দলের মত শোনায় আমার তাতে কিছু যায় আসে না। কারন সত্য সব সময় সত্যই সে কেউ বলুক না বলুক।



No comments:

Post a Comment