Friday, April 19, 2019

বাংলাদেশের পরিবেশ দূষণ/অবক্ষয় ও আমাদের ঘুমিয়ে থাকা

বাংলাদেশের পরিবেশ দূষণ/অবক্ষয় ও আমাদের ঘুমিয়ে থাকা

-এন জে শাওন


স্বেচ্ছায় গ্রেপ্তার হচ্ছেন লন্ডনের কিছু নাগরিক। কাদের জন্য বা কিসের জন্য গ্রেপ্তার হচ্ছেন? পৃথিবীকে বাঁচানোর জন্য মানুষদের বাঁচানোর জন্য।
আসেন খোলাসা করেই বলি, এক্সটিঙ্কশিয়ন রেবিলিয়ন নামে এক পরিবেশবাদী এনজিও এর উদ্যোগে লন্ডনের নাগরিকরা সরকারের পরিবেশের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এই অভিনব পদ্ধতিতে পরিবেশ আন্দোলন চালচ্ছেন। তারা কোন সহিংস আন্দোলন চালাচ্ছেন না। তারা শুধু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোতে বসে যাচ্ছেন । পুলিশ এসে তাদের নিয়ে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন।
                                                                           ছবিঃ এএফপি

আমার বয়সী মানে ২৩ বছরের একজন আন্দোলনকারি ছাত্র এবিসি নিউজকে বলেন ‘"আমরা এখন কিছু না করলে এটি একটি বিপর্যয়মূলক প্রভাব ফেলবে," ।
অপরদিকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সামনে অবস্থান নেওয়া ৩১ বছর বয়সী লরনা গ্রিনউড নামের এক আন্দোলনকারী বলেন, ‘আমি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
এ সময়ে কেউ চাইবে না রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবস্থান করতে কিংবা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে হাজতে রাত কাটাতে। জনদুর্ভোগ সৃষ্টির পক্ষেও আমি নই। কিন্তু পৃথিবীকে ধ্বংস থেকে রক্ষায় কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করতে এগুলোই সহজ বিকল্প।’

এই পথ বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে এনজিওটির প্রধান বলেন যে “চিঠি চালাচালি ও বিবৃতি দিয়ে কিছুই হয়নি” ।

আন্দলোনকারীদের প্রধাণ দাবি হচ্ছে ২০২৫ সালের মাঝে কার্বন নিঃসরনের পরিমাণ শুণ্যতে নিয়ে আসা।
পুলিশ এখন পর্যন্ত পাঁচশ জনকে গ্রেপ্তার করেছেন। এবং ১০ জনের উপর চার্জড করেছেন। আবার পড়েন মাত্র ১০ জন (বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পুলিশ কেমন মারে? চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গত সপ্তাহেই আন্দোলনে পুলিশ এসে লাঠিপেটা ও গুলি ছোড়া শুরু করে। যেখান থেকে সাধারন মানুষও বাদ পড়েনি। এই হিসেবে বলতে হয় বাংলাদেশের পুলিশ থেকে ওদের শিখতে হবে ,প্রচুর শিখতে হবে। )।



এই হাস্যকর কথা শুনে মনে হলো লন্ডনের বর্তমান বায়ুর অবস্থাটা একটু চেক করিতো। লন্ডনের বর্তমান এয়ার কোয়ালিটি হচ্ছে ৮৯ পয়েন্ট (কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ৮৩। এ নিয়েই তারা তোলপাড় ।
অপরদিকে আমি যেখানে বসে এ লেখা লিখছি সেই চট্টগ্রামের এয়ার কোয়ালিটি পয়েন্ট ১৬৪ এবং বাংলাদেশের রাজধানীর পয়েন্ট ও সেম।
কার্বন অক্সাইডের পরিমাণ চট্টগ্রামে ৪৭১ ও ঢাকায় ৮৬৫।

(সূত্রঃ এয়ারকোয়ালিটি.কম) । ঢাকার মিরপুর ও চট্টগ্রামের হালিশহরের টা আলাদাভাবে মাপতে পারলে সুবিধা হতো।

[এয়ার কোয়ালিটি পয়েন্ট অনুযায়ী, ০-৫০ = খুবই ভালো, ৫১-১০০ = গ্রহণযোগ্য, ১০০-১৫০ = একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১৫১-২০০= সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর, ২০১-৩০০= খুবই অস্বাস্থ্যকর, ৩০০+= বিপজ্জনক]


এটাতো শুধু গেলো বায়ু দূষণের গল্প। যেখানে ঢাকা বিশ্ব দ্বিতীয় ও দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রথম।


অন্যান্য দিকে খেয়াল করি ঢাকার নদী দূষণের মাত্রা দেখাতে হবে না। শুধু নদীগুলোর পানির দিকে তাকালেই হবে। সরকার আইন করেছে কিন্তু সেটার বাস্তবায়ন হয়নি। শুধু বুড়িগঙ্গার তীরেই ১০০০ টার উপর শিল্প প্রতিষ্ঠান আছে যাদের ৬০% কোনরুপ বর্জ্য শোধণ যন্ত্রই নেই। বাকিদের যন্ত্র আছে কাজ করে না, ইত্যাদি টাইপ।

শব্দদূষণে ঢাকার যেসব স্থানে ৪৫ ডেসিবল থাকার কথা সেসব স্থানে ৮০ ডেসিবলের উপরে পাওয়া যাচ্ছে (বাংলাপিডিয়া)


এভাবে শুরু করে পানি দূষণ, মাটি দূষণ, কোনটাতেই আমরা পিছিয়ে নেই। টপ টেনের ভেতরে আছি।


অথচ আমরা দিব্যি শুয়ে, বসে আছি। এবং গরমে বেশি করে রাস্তার পাশ থেকে লেবু পানি খাচ্ছি। এছাড়া আমাদের করারই বা কি আছে।

রোহিঙ্গাদের জায়গা নিয়ে আমরা যে পরিমাণ পরিবেশ অবক্ষয়ের শিকার হইয়েছি তা অপূরণীয়। সেখানকার প্রাকৃতিক বন, পরিবেশ সব বিনষ্ট হয়ে গেছে।

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে যেখানে ইউনেস্কো পর্যন্ত পরিবেশ হুমকির রিপোর্ট দিয়েছে সেখানে সরকার গোয়ার্তুমি দেখিয়ে আইআইসিইউএন এর ইআইএ নিয়ম মানে নি।

ইউনেস্কো তাদের রিপোর্টে ৪ টা মূল বিপজ্জনক পয়েন্ট তুলে ধরেছে। কিন্তু আমরা তবুও করে গেছি।

এবং এই সব পরিবেশ অবক্ষয়ের ফলাফল অদূর ভবিষ্যতে নয় ,এখনি পাচ্ছি। তীব্র গরম, শিলা বৃষ্টি আমাদের বারবার পরিবেশের কথা মনে করিয়ে দিলেও আমর তাকে থোড়াই কেয়ার।

সুত্রঃ প্রথমআলো.কম
বিবিসি.কম
বাংলাপিডিয়া

No comments:

Post a Comment