Saturday, April 20, 2019

আমরা ভালোবাসার সম্পর্কে যেমন প্রেমিক বা প্রেমিকা চাই


ভালো থাকুন ভালো রাখুন

এন জে শাওন

 

(ইহা নিতান্তই প্রেমের গল্প না। সাহিত্যবোদ্ধাদের ইচ্ছের গল্প)


আমার যে প্রেমিকা ছিল তাকে নিয়ে একদিক থেকে আমি চরম হতাশ ছিলাম।

আমি সাহিত্যবোদ্ধা না হলেও মোটামুটি বই পড়তাম। প্রেমিকাকে কল্পনা করতাম গল্পের নায়িকা হিসেবে।
অথচ সে ছিল ঠিক তার উলটো।

প্রেম শুরুর কিছুদিনেই বলছিলাম 'বিলাসী' এর মত সাথে থাকবে? মৃত্যুকে জয় করবো, তার উত্তর ছিল
" Who the hell this bilasi?" বিলাসীকে আমি প্রচন্ড ভালোবাসি তাই কথাটা স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারিনি।

ওর সারল্যতায় একদিন
বলেছিলাম "তোমাকে হৈমন্তীর মত লাগছে"। সে বললো "এই নামে কোন নায়িকা তো শুনি নাই? বলিউড নাকি কলিউডের নায়িকা?"

একদিন কাব্য করতে করতে বললাম "সুনীলের নীরা হবে তুমি?"
বললো, "আমি নীরা পিরা হইতে হইতে পারুম না, শাওনের **** হইতে পারমু, চলবে?"

রাগ উঠে গেছিল মাথায়, সুনীলের কবিতা, পদ্মা নদীর মাঝি, মেমসাহেব সহ বেশ কিছু বই এনে দিয়ে প্রথমেই কবিতা পড়তে বললাম।

সে পরেরদিন এসে জবাব দিল "এসব বাল-ছাল ভণিতা পড়তে আমার ভাল্লাগে না"
"কবিতা তোমার কাছে ভণিতা লাগে"।
-"হ, শুধু ভণিতা না মিথ্যেয় ভরা অখাদ্য"
আমি শুধু হা হয়ে তাকিয়ে ছিলাম।

আরেকদিন বললাম "দূর দ্বীপে কপিলার মত যাইবা আমার লগে?"
"নাহ, এখানেই থাকমু। আর ঠিক করে কথা বল। এগুলা কেমন কথা?"

শেষ হিমু উৎসবের আগে একদিন বললাম "কাল রুপা সাইজা আসো",
- রুপা কে? তোমার গার্লফ্রেন্ড ছিল? একটা পিক পাঠাই দিও।
আমি আর ধৈর্য্য ধরে রাখতে পারিনি, ইচ্ছেমত ঝাড়ি দিলাম। বললাম-
"যে মেয়ে রুপাকে চিনে না তার প্রেমিকা হওয়ার যোগ্যতা নেই। আমার প্রেমিকাতো নয়ই। দশবার জন্মাতে হবে তাকে আমার প্রেমিকা হওয়ার জন্য"
এ বলে উঠে চলে আসলাম।

পরেরদিন ঠিকই সে রুপা সেজে আসলো নাহ রুপা সেজে না নীল শাড়ি পরে আসলো।
এসে বললো" তোমার হাত দুটো ধরি?"
আমি ধরতে দিলাম। সে হাত ধরে কিছুক্ষণ চুপ করে বলতে শুরু করলো-

" রুপাকে আমি কাল গুগল সার্চ করে চিনেছি। কিন্তু এ সাজ রুপা হওয়ার জন্য না। তোমার নীল শাড়ি ও নীল টিপ ভালোলাগে এটার জন্যই পড়া। শুধু এটুকু বললেই হতো। আমি সেজে আসতাম।

আমার পক্ষে বিভিন্ন সাহিত্যের নায়িকা হওয়া সম্ভব না। আমার পক্ষে তোমাকে আমার মত করে ভালোবাসা ছাড়া অন্য কিছু হতে চাওয়া হবে না। কেমন ফেইক ফেইক লাগে। আমি জানি তুমি এসব নিতে পারো না। কিন্তু আমি সত্য চেষ্টা করেছি হতে তোমার অগোচরে, কিন্তু দিনশেষে মনে হয়েছে আমি মাঝির কপিলা, জীবনানন্দ এর বনলতা সেন হওয়ার চেয়ে শাওনের **** হওয়াই যুক্তিযুক্ত তা তুমি চাও বা না চাও।"

সত্য হচ্ছে সে এভাবে বলার পরেও আমি মেনে নিতে পারিনি। যতবার রোমান্টিক উপন্যাস,গল্প পড়েছি ততবার তার উপর রাগ হয়েছে। তবে এ নিয়ে তাকে আর কিছু বলিনি।

এসব যখন হয় তখন আমাদের রিলেশানের আঠারো মাস বয়স মাত্র। এরপরেও আমাদের সম্পর্ক মোট প্রায় ছয় বছর বেঁচেছিল।

গত তিনমাস আমাদের সম্পর্ক নেই। এ তিনমাসে
আমি যতটা না তাকে না পাওয়াতে হতাশ তার চেয়ে বেশি হতাশ, বেশি পোড়ে তার মত করে সে যেভাবে ভালোবেসেছে আমি নিশ্চিত যেকোন গল্পের নায়িকাকে হার মানাবে।
অথচ তার উজাড় করা ভালোবাসা আমি নিতে পারিনি বলে।
এখন চাইলেও নেওয়া সম্ভব না বলে।

দিনশেষে মনে হয়, কোন সাহিত্যিক আমাদের প্রেম কাহিনী লিখলে আগামী প্রজন্ম তার প্রেমিকাকে ***** হতে বলবে।

( প্রেমিকার নাম প্রকাশ করিনি তাইলে আবার অনেক ছেলে প্রেমিকাকে এর মত হতে বলতে পারে, তবুও নাম প্রকাশ করা উচিত ছিল। না করাতে দু:খিত)

বি.দ্র.

এটা কোন গল্প নয়। এটা হচ্ছে বইপড়ুয়া জাতির একটা কমন সমস্যা। যারা বই পড়ে না তেমন তাদের ক্ষেত্রে এটা আরো মারাত্মক, তারা নাটক/সিনেমার নায়িকার মত চায়। চেতন মনে বা অবচেতন মনে।

একটা মানুষের সম্পর্কে দশটা উপন্যাসের নায়িকার মত হওয়া সম্ভব না। হয়ত ১ টার মতও সম্ভব না। হওয়া উচিতও না।
ভালোবাসার যেমন নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই তেমনি এর নিজস্ব ধ্রুবক ধরণ ও নেই।
এর মত, ওর মত এবং পারলে আপনার ইচ্ছেমত না চেয়ে একবার বলুন
"তুমি তোমার মত করে ভালোবাসবে,প্লীজ?"

ভালোবাসারা বইয়ের পাতায় বা সিনেমা থেকে না শিখে প্রেমিকার হৃদয় থেকে শিখুন। পারলে হৃদয় পড়ুন, না পড়তে পারলে হাত তুলে জিজ্ঞেস করেন
"এই লাইন বুঝি না, একটু বুঝাই দাওতো।"

1 comment: