Wednesday, December 9, 2020

ধর্ষণের বিচার ও বাংলাদেশ

ধর্ষণের বিচার ও বাংলাদেশ পদ্ধতি একঃ যে নিয়ম পদ্ধতি চালু আছে সেভাবেই বিচার হোক। সমস্যা আশা করি বলে দিতে হবে না। ভাইরাল হলে বছরের পর বছর বিচার ঘুরবে। এর মাঝে কখন খালাস পেয়ে যাবে তার কোন ঠিক নেই। আজ পর্যন্ত এই রাষ্ট্রে ধর্ষণের জন্য কারো মৃত্যুদন্ড হয়েছে? আইন আছে, আদালত আছে, জাজ আছে, উকিল আছে, গণতন্ত্র আছে, সংবিধাণ আছে শুধু প্রয়োগ নেই। ভাইরাল না হলে আইনের লোকেরা পাওয়ারের লোকেদের ভয় পাবে। হোক আইনের লোক ২৫ বছর পড়াশোনা করে, গাধার খাটুনী খেটে জবটা নিবে। তার পিছনে রাষ্ট্রের জনগণের ও তার বাবার ঘাম ঝরানো কষ্টের টাকা থাকুক সে ক্লাস নাইন পাশ ইউনিয়নের সহসভাপতিকে ধরতে পারবে না । কিছু বলতে পারবে না, কারণ?। শুধু মাঝে মাঝে ফেসবুকে বৃদ্ধাকে রাস্তা পার করানোর ছবি দিবে। পদ্ধতি দুইঃ ধরামাত্র ক্রসফায়ার কাকে ধরবে? কারা ধরবে? যাদেরকে ধরতে বলেন, ক্রসফায়ার দিতে বলেন তারা চাইলেতো বর্তমান নিয়মেই অন্তত প্রথম ঠেলায় ধর্ষককে ধরতে পারে। অনেক অন্যায় প্রতিরোধ করতে পারে। কিন্তু তারা কি করে? ওই যে উপরে বললাম। আর প্রদীপের মততো আছেই। নিউজে ছাপবে ধর্ষককে ক্রসফায়ার বাস্তবে ওই ক্রসফায়রের লোক ঘুরে দাড়াবে। ফেনীর কারাগারে ভুল নামে ক্রসফায়ারের কথা মনে আছে? তখন যা হবে তা আরো ভয়ংকর । নিরপরাধ ব্যাক্তি মারা যাবে ধর্ষণের দায়ভার কাঁধে নিয়ে। তার পুরো পরিবার এর অবস্থা চিন্তা করেন। বিশ্বাস হচ্ছে না? বাংলাদেশে থেকে গত কয়েকবছর মাদক্সেবির হত্যাকান্ড দেখে বিশ্বাস না করলে, র্যা বের নারায়ঙঞ্জ কাহিনী, বা পাঁচ এর আগে র্যায়বের কাহিনী দেখে বিশ্বাস না করলে আমার কিছু বলার নেই। অনেকে বলবেন অল্প কিছু নিরপরাধ মানুষ মরে তবুও ধর্ষণ কমুক। তাদের উদ্দেশ্য করি বলি প্রথমত নিরপরাধ শুধু মানুষ মরবে না তারা দায়ভার মিথ্যা দায়ভার কাঁধে নিয়ে মরবে। এমন অভিযোগ যা সবচেয়ে ঘৃণিত। দ্বিতীয়ত, আমিও মানি ১০ জন অপরাধী মুক্তি পাক তবুও একজন নিরপরাধ যেন মিথ্যা সাজা না পায়। ( যারা আইনে পড়ে তাদের মনে হয় প্রথমেই এইটা শেখানো হয়) তৃতীয়ত, হয়ত কিছু ভিডিও বা চিত্র দেখে ধারনা হতে পারে সব ধর্ষণ বুঝি এমনই। না। বেশিরভাগ ধর্ষণ এমন ফটো, ভিডিও দিয়ে হয় না। পরে অভিযোগ করে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশে কি পরিমাণ মিথ্যা অভিযোগ হয় তা কল্পনা করতে পারবেন না। ( সত্যের তুলনায় কিছুই না সংখ্যাটা)। কিন্তু অনেক। তাদের নামে অভিযোগ করলেই কি ধরে নিয়ে গিয়ে ঠুস? কয়েকদিন আগে মনে আছে নীল কালারের মোবাইলের বদলে অন্য কালারের মোবাইল দেওয়ায় ধর্ষণের অভিযোগ তুলছে তখন। এরকম কত হয় তারা জানেন। বিশেষ করে ভিলেজ পলিটিক্স যারা করে তারা জানেন এই ব্যাপারটা কেমন। যার পুলিশ কিংবা আদালতে আছেন বা তাদসের সাথে ভালো খাতির আছে জিজ্ঞেস কইরা নিয়েন? যারা এইরকম একতা ভয়ানক ব্যাপার নিয়ে মিথ্যা বলে বেড়ায় তাদের বিরুদ্ধে আইন কতটা স্ট্রং? আবার ধর্ষনের নানা রকমফের আছে যেমন মেয়ে ধর্ষণের অভিযোগ করলো ।পরে শুনা যায় মেয়ে-ছেলে উভয়ের সম্মতিতে যৌনমিলন হয়েছে পরে যেকোন কারনে (যৌক্তিক, অযৌক্তিক উভয়ই) ছেলে তাকে বিয়ে করবে না। বাংলাদেশি আইনে এটাও ধর্ষন। এখন এটা প্রমাণ করতেতো সময় লাগবে। মামলা শুনেই নিয়ে গিয়ে ঠুস হলে । তারপরের আরেক ভয়ংকর হচ্ছে রাজনীতির ও টাকার নীতির ব্যবহার। যেটা উপরেও বললাম এখন ইয়াবা ঢুকিয়ে দেয়, মাদকের নামে মারে তখন ধর্ষন করবে একজন মারা পড়বে আরেকজন। এগুলো এখনো হয় যেটায় ক্রসফায়ার জায়েজ করছে সেখানে। এখানে হবে না কি গ্যারান্টি? পদ্ধতি তিনঃ এক দুই মাসে বিচার হয়ে ফাসি বা ক্রসফায়ার। আমরা যারা ক্রসফায়ারের নামে অর্থের পাহাড়, হুমকি ধামকি নিরীহলোকদের জীবন নেওয়ার ব্যপারগুলো পত্রিকায় পরেছি ও মাথায় রেখেছি আবার বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা থেকে ধর্ষকদের মুক্ত হওয়াটাও জানি তারা মোটামুটি এটা মানি। ( যারা এখন পর্যন্ত টোটালি মৃত্যুদন্ডের বিরুদ্ধে, রাষ্ট্র অন্যায় করতে পারে না। রাষ্ট্রের কাজ সংশোধণী ইত্যাদি মানেন তারা ব্যাতীত) কিন্তু এইএক দুই মাসে কাজ করবে কে? তাদের কি উপরে বর্ণিত মানুষদের থেকে নিয়োগ দিবে? যদি তারা পারে তাইলে এখন পারে না কেন? তাদের হাতে অঢেল ক্ষমতা দিলে পারবে। তো সেই ক্ষমতা এখনো কি তারা পাচ্ছে না? পদ্ধতি চারঃ দেশের মানুষকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ ও রাজনীতিমুক্ত বিচার ব্যবস্থা লাগবে। এটাই একমাত্র পদ্ধতি। বাট ওয়েটও, সেটা হওয়ার কোন সম্ভাবনা আছে সামনের পাঁচ বছরে? আপনিতো মিয়া সবই ঝামেলা বলতেছেন। তাইলে কিভাবে হবে? কোন একটা বলেন? -ভাই/আপু এরকম কোন একটা পাইলেতো হতোই। আপনি পুরা দেশের সমস্যা অস্থায়ী টোটকা সমাধাণ করতে পারবেন না। এটা আপনার নিজের রুম বা পরিবার না। সো আপাতত আপনি আপনার অবস্থান থেকে যা সম্ভব সেভাবে প্রতিরোধ করে যান।

No comments:

Post a Comment