ঘূর্ণিঝড় ফণীর লাইভ অবস্থান যেভাবে জানবেন ও ফণীর নানা তথ্য
![]() |
| ঘূর্ণিঝড় ফণী |
আজ ২ই মে । বাংলাদেশের সবার মাঝে বিরাজ করছে একটা আতঙ্ক। এই আতঙ্ক ঘূর্ণিঝড় নিয়ে । ঘূর্ণিঝড় ফণী নিয়ে। ফণী অর্থ সাপ। সে সাপ
৩ তারিখ সন্ধ্যায় কিংবা ৪ তারিখ সকালেই বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে।
তবে এর পূর্বে কলকাতায় আঘাত হানবে ৩ তারিখ। এতে ফণী দুর্বল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তাই প্রায় সবাই এই ঘূর্ণিঝড় ফণীর আপডেট জানতে ব্যস্ত। দেখা গেল আজ দুপুরে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট ডাউন হয়ে গিয়েছে। তাই আপনি নিজেই ফণীর অবস্থান দেখার জন্য নিচের কয়েকটি ওয়েবসাইটে যেতে পারেন।
এখানে আপনি ফণীর বর্তমান অবস্থান ছাড়াও বর্তমান বাতাসের গতিবেগ, এর পথ এবং কোথায় কখন আঘাত হানবে এবং বাতাস কেমন আসবে তার সম্ভাব্য খবরাখবর জানতে পারবেন।
এই ওয়েবসাইটে google map এর মত স্যাটেলাইটে ফণীর এখনকার অবস্থান জানার পাশাপাশি ১ ঘন্টা পর কই থাকতে পারী বা কাল সকাল ৯ টায় কই থাকবে তা জানতে পারবেন। পাশাপাশি তখনকার বা এখন আশেপাশের জায়গা গুলোতে বাতাসের গতিবেগ, আবহাওয়া হিউমেডিটি ইত্যাদি জানতে পারবেন।
এটি বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট । যদিও এই ওয়েবসাইটটি অতিরিক্ত ট্রাফিকের কারনে এখন বন্ধ তবুও আশা করি দ্রুত সারিয়ে ফেলবে এই ত্রুটি এবং এখান থেকেই প্রতিনিয়ত আপডেট পাওয়া যাবে।
এটি বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ। প্রতি ঘন্টায় ঘন্টায় তারা আপডেট দিয়ে থাকে।
এটি বাংলাদেশের অন্যতম পত্রিকা প্রথম আলোর ওয়েবসাইট। এরাও প্রতিনিয়ত ফণীর আপডেট দিয়ে থাকে।
এটিতেও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বর্তমান অবস্থান জানা যাবে।
যে ব্যতিক্রম প্রস্তুতিগুলো অবশ্যই নিবেনঃ
ফণীর পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে ইতোমধ্যে অনেকগুলো লেখাই পড়েছেন ওগুলোর বাইরেও যেসব মানবেন তা হচ্ছে-
১) অবশ্যই মোবাইলে পূর্ণ চার্জ রাখবেন এবং বিদ্যুৎ চলে গেলে অযথা ফোন টিপাটিপি করে,ফেসবুক চালিয়ে ফোনের চার্জ হারাবেন না।
২) ঘরে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাওয়ার পানি, বাথরুমের পানি রাখুন।
ফণী নিয়ে বাংলাদেশের প্রস্তুতিঃ
১) অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণি'র দাপটের সতর্কতা সংকেতঃ
⚠⚠মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর এবং বরিশাল ও খুলনা বিভাগের উপকূলীয় জেলাসমূহের জন্য ৭ নম্বর বিপদ সংকেত।
⚠চট্টগ্রাম বন্দর ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় জেলাসমূহ এবং তার দ্বীপ ও চরসমূহের জন্য ৬ নম্বর বিপদ সংকেত।
⚠কক্সবাজার বন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা যাচ্ছে।
২) শুক্রবার সকাল থেকেই বাংলাদেশের খুলনায় ফণীর প্রভাব শুরু হয়ে যেতে পারে।
৩) আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, এটি আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৮১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় আগামীকাল শুক্রবার (৩ মে) সকাল নাগাদ অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’-এর অগ্রবর্তী অংশের প্রভাব শুরু হতে পারে।
৪) ঘূর্ণিঝড় ও অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
৫) কক্সবাজারে সাড়ে চার লাখ মানুষে আশ্র্য় কেন্দ্রে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ফণী সম্পর্কে নানা তথ্যঃ
২) এটি আয়তনে বাংলাদশের চেয়ে বড়। যদিও আয়তন বড় হওয়া মানেই বেশি শক্তশাল নয়।
৩) আয়তন বড় হওয়া মানেই শক্তিশালী না হলেও এটি কিন্তু বেশ শক্তিশালী। ১৯৭৬ সালের পর থেকে ভারত মহাসাগরে এত শক্তশালী ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়নি।
৪) ভারতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৮৬ কোটি টাকা অগ্রিম বরাদ্দ হয়েছী ফণীর জন্য । তাদের দেশে জারি হয়েছে হলুদ সতর্কতা। তাদের আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুসাররে কাল তাদের ওডিশা বিভাগী আঘাত হানবে এবং বাতাসের গতিবেগ থাকবে ঘন্টায় ১৮৫ কিলোমিটার থেকে ২০৫ কিলোমিটার পর্যন্ত।

No comments:
Post a Comment