Monday, May 6, 2019

রমজানের পবিত্রতায় ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ও অসুস্থদের প্রতি আচরণ এবং সওয়াব আদায় করার কিছু সহজ পদ্ধতি।


আহলান সাহেলান মাহে রামাদান


রমজানের পবিত্রতায় ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ও অসুস্থদের প্রতি আচরণ এবং সওয়াব আদায় করার কিছু সহজ পদ্ধতি।


- এন জে শাওন




রমজান মাস সংযমের মাস । এই মাসে করণীয় কি, বর্জনীয় কি তা আমরা সবাই এতদিনে জেনে গেছি। কি কি নিজেরা করবো , কি কি করবো না তার একটা প্রস্তুতি নিজেরা নিয়ে নিছি মনে মনে। যেহেতু এই মাসে আমাদের মাঝে সময়গত একটা বিশাল পার্থক্য দেখা যায় তাই সবারই এই মাস নিয়ে আলাদা প্রস্তুতি থাকে। ইফতারি ও সেহরী আয়োজনীর পরিকল্পনা ছাড়াও আলাদা পরিকল্পনা থাকে কিভাবে সওয়াব কামাবো, কিভাবে পাপে কম জড়াবো ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি সেই সাথে আরো কিছু যোগ বিয়োগ করার জন্যে যা সাধারণত আমরা কম শুনে থাকি তা বলার জন্যই এই পোস্ট।


১) বাংলাদেশে শতকরা ৯০% মুসলিম। ১০% অন্য ধর্মাবলম্বী। সঙ্খ্যায় ধরলে প্রায় দেড় কোটির উপরে। তাদের অনেকেই চাকুরী করে ,ব্যবসা করে, কায়িক পরিশ্রম করে ইত্যাদি কারণে ঘরের বাহিরে থাকে। তার উপরে অনেক মুসলমান অসুস্থাজনিত কারনেও রোজা পালন করতে পারে না।
স্বাভাবিক ভাবেই দেশের বেশিরভাগ হোটেল, রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি দিনের বেলায়
বন্ধ থাকে । দুই একটা খোলা থাকে যা সেগুলোতেও পর্দা থাকে, শাটার অর্ধেক বন্ধ থাকে তাই যারা রোজা থাকে না এবং দিনের বেলায় বাহিরে থাকে তাদের বেশিরভাগকেই দিনেরবেলায় খাওয়ার জন্য একটু সমস্যা পোহাতে হয়।

কিন্তু এরপরেও প্রতিবছর আমরা দেখি  বা শুনি এসব দোকানে অতি আবেগি কিছু মানুষ হামলা করে এছাড়া ফেসবুকে ছবি ভাইরাল হয়ে  ট্রলতো আছেই । এগুলা বড়ই কষ্ট দেয়, পীড়া দেয়।

সত্য হচ্ছে তারা যদি দোকান খুলে রেখে যদি আমাদেরও সামনে খায় তাতেও আমাদের হামলা করাতো দূর না খাওয়ার জন্য বলার অধিকারও নাই। অনেকেই আবার যুক্তি দেয় রোজাদারের সামনে খেলে রোজাদারের খেতে ইচ্ছে হয়। ভাইরে, যদি অন্যকে খেতে দেখলেই আপনার রোজা ভাঞতী ইচ্ছে করে তাইলে আপনার ঈমানি শক্তি কতটা সেটা নিয়ে সন্দিহান হবে মানুষ।

এবং সারবছর আপনি নামাজ অড়ার জন্য কারো দোকান বন্ধ ক্রেন না যেখানে একের অধিক ফরজ রয়েছে কিন্তু রমজান আসলেই সংযমের নামে আপনি অন্যজনের উপরে হামলে পড়েন এটা হিপোক্রেসি।

২) আপনার যদি অনেক বড় কোম্পানি থাকে, অফিস থাকে, অফিসের ক্যান্টিন থাকে স্বাভাবিক ভাবেই ক্যান্টিন এখন অফ থাকবে । তাই যারা রোজা থাকতে পারে না তাদরা যেন বাইরে থেকে বা বাড়ি থেকে নিয়ে এসে খেতে পারে সেই ব্যবস্থাটুকু করুন।

৩) তবে সিগারেট খাওয়ার ব্যপার আলাদা । স্বাভাবিক ভাবেই পাবলিক প্লেসে সিগারেট খাওয়া নিষেধ সেখানে রমজানে এটা পুরোপুরি বাদ দেই। সিগারেট খাওয়া নয় জনসম্মুখে খাওয়া। কারণ আপনার সিগারেট খেতে দেখলেই আমার রোজা ভেঙে সিগারেট খেতে ইচ্ছে করবে তা নয় । খালি পেট থাকার কারনে সিগারেট ধোঁয়া নাকে গেলে ,পেটে ঢুকলে পেট মোচড়াবে , বমি হতে পারে এবং রোজা ভেঙে যাবে।

৪) খুব ছোট ছোট কাজ করেই আপনি অন্যকে সাহায্য করতে পারেন । অন্যকে ভালো কাজে সাহায্য করা মানেই সওয়াব এবং রোজার মাসে সওয়াব  মানে বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়া।
আপনি চেষ্টা করেন প্রতিদিনের চেয়ে আজকে হর্ণ কম দিয়ে কাজ সারার। অযথা হর্ণ না দিন এতে রোজাদার কষ্ট কম পাবে আপনি সওয়াব পাবেন।
আপনি চেষ্টা করুন আজ রাস্তায় ময়লা ফেলবো না। সুইপারদের যাতে একটু কম কষ্ট হয়।

এসব করতে আপনার না টাকা খরচ হবে বা আপনার কষ্ট হবে বেশি কিন্তু আপনি সওয়াব পাচ্ছেন বেশি।

৪) পরিবারের মহিলারা এখন রান্নাবান্নার কাজটা সারে দুপুর থেকে বিকেলে । একদিকে তখন প্রচন্ড গরম, আবার ক্ষুধার্ত তাই যতটুকু সম্ভব তাদের বেশি বেশি সাহায্য করুন।

৫) রোজা থেকে রান্না করার সময় স্বাদ টেস্ট করা যায় না বিধায় মাঝী মাঝে রান্নার স্বাদ চেঞ্জ হয়ে যায় । ব্যাপারটাকে স্বাভাবিকভাবে নিন।
এছাড়া বেশি বেশি আইটেম বানানোর নাম করে রান্না প্রস্তুতকারীদীর উপর কম চাপ দেই।


এই এক মাস আমাদের কাছে পুরাই আলাদা, বিশেষ। সেটাকে আমরা সবাই সকল কাজে বিশেষভাবেই পালন করার চেষ্টা করি। এবং যাতে পালন করতে পারি তার জন্য সবাই সবার জন্য দোয়া করি।

No comments:

Post a Comment